সব ঠিক হয়ে যাবে-পর্ব -১, ২, ৩ একসাথে

19th Feb 2017– সকাল সাড়ে আটটা

“আচ্ছা ফেসবুক-এ কাউকে unfriend করে দিলে; সে যদি কোনো ফোটোয় আগে লাইক করে থাকে; তাহলে কি সে সেই লাইক- টাকে আনলাইক করতে পারে?”

রোদ প্রশ্ন টা এক নিঃশ্বাসে ছুঁড়ে দিলো অরিত্রর দিকে..অরিত্র পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার.. ইতিহাসের প্রফেসর রোদ বসুর ছোটবেলার বন্ধু অরিত্র.. রোদের কদিন ধরে মনে হচ্ছিল ওর সাথে যা যা ঘটছে সেই নিয়ে অরিত্রর সাথে কথা বলা খুব দরকার. আজ রবিবার ছুটির দিন ..তাই দেরি না করে রোদ সকাল সকাল চলে এসেছে অরিত্রর বাড়ি..অরিত্র একটু সময় নিয়ে বললো

“হুম আনলাইক করতেই পারে যদি ফটোটা পাবলিক-এ থাকে” ….

“না না আমার সব ফটোগুলো তো শেয়ার উইথ ফ্রেন্ডস -এ ছিলো তবুও দেখি ওর সব লাইক ও তুলে নিয়েছে; এটা কি করে সম্ভব?”

এই প্রশ্ন টা করার সময় রোদের গলাটা অল্প অল্প কাঁপছিলো..অরিত্র বেশ বুঝতে পারছিলো বিষয় টা সিরিয়াস ..তবুও মুখে কিছু হয়নি ভাব রেখে বললো

“দেখ তুই ভাবছিস আনফ্রেন্ড করে দেওয়ার পরেও কি করে কেউ তোর ফটো থেকে লাইক তুলতে পারে স্পেশালি তুই যখন ফটোটা ফ্রেন্ড এ রেখেছিস .. কিন্তু ব্যাপারটা অন্যরকমও তো হতে পারে.. ধর, যে লাইক করেছিলো সে তার প্রোফাইল ডিএক্টিভেট করে দিয়েছে তাই তুই দেখছিস লাইক টা নেই .”

..”আরে না সেরকম কিছু হলে কি আমি এতো চিন্তা করতাম… ওর প্রোফাইল আছে আমি চেক করেছি.. আমার তো মনে হয় ও আমার ফেসবুক হ্যাক করেছে..শুধু ফেসবুক না পুরো কম্পিউটার ..সব কিছু হ্যাক করেছে আর চুপিচুপি আমার সব অনলাইন এক্টিভিটি ফলো করছে…আর ..”

রোদকে মাঝপথে থামিয়ে অরিত্র বললো “এটা তো তোর অনুমান, কোনো প্রমান আছে তোর কাছে ?”

“হ্যাঁ পরশু আমি একটা ছোট্ট কবিতা লিখে সেভ করে রেখেছিলাম ওয়ার্ড এ কাল দেখি সেটাও ওর timeline এ লিখেছে.. হুবুহু সব কিছু এক…এই দেখ” বলে রোদ ওর ল্যাপটপ টা এগিয়ে দিলো অরিত্রর দিকে…….

রোদ খুব সুন্দর লেখে অরিত্র জানে; রোদ লিখেছে —

” প্রিয় নদী

এক বিকেলে জানলা দিয়ে দেখে তোমায় আমি ভালোবেসেছি / তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করোনি ….. আমিও আর ফিরে যায়নি কখনো / শুধু তোমার ভেতর থেকে কিছু জীবন্ত মুহূর্ত আমি নিজের করে নিয়েছি,,.. ভালো থেকো…

ইতি

একটি ভবঘুরে মন”

লেখাটা পরে অরিত্র রোদের দিকে তাকালো..

“এবার এটা দেখ” বলে রোদ ওর ফোনটা এগিয়ে দিলো অরিত্র দেখলো একটা ফেসবুক প্রোফাইল খোলা.. হুবুহু same লেখা জ্বলজ্বল করছে এই প্রোফাইল-এর timeline -এ..ডেট দেখলো অরিত্র কালকের ডেট..

“প্রোফাইলটা কার ?” বলেই প্রোফাইল-এর নামের দিকে চোখ গেলো তার… অরিত্রর মুখ হাঁ হয়ে গেলো.. উত্তেজনায় চিৎকার করে বললো

” তানিয়া মজুমদার , হিন্দি সিরিয়াল-এর এক নম্বর নায়িকা তোর প্রোফাইল হ্যাক করেছে? তোর লেখা কপি করেছে? তুই চিনিস ওকে..?”

রোদ কিছু বলতে যাচ্ছিলো ঠিক তখনি একটা unknown নম্বর থেকে sms টা এলো. sms টা খুলেই রোদের সমস্ত রোমকূপ খাঁড়া হয়ে উঠলো ওর মনে হলো ও হাওয়ায় ভাসছে !! ওর শরীরে কোনো জোর নেই .. কোনো রকমে ফোনটা ও অরিত্রর হাতে দিলো ..অরিত্র দেখলো sms এ লেখা আছে

“সব ঠিক হয়ে যাবে”

অরিত্র নম্বরটায় রিং ব্যাক করে ঠোঁট উল্টে রোদের দিকে তাকিয়ে বললো..
“sms পাঠিয়েই সুইচড অফ করে দিয়েছে.. নম্বরটা চিনিস তুই?”

এখন সেভাবেও গরম পড়েনি, তবুও রোদের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটে উঠেছে দুশচিন্তায়..কপালের ঘাম মুছতে মুছতে রোদ বললো
“না চিনি না …তবে কি আমায় কেউ stalk করছে ..আমাদের কি থানায় যাওয়া উচিত..আর ..”
রোদকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে অরিত্র বললো
“ওসব পরে হবে আগে তুই পুরো ব্যাপারটা খুলে বল আমায় তানিয়া মজুমদারকে তুই কি ভাবে চিনিস? তোর সাথে ওর কি সম্পর্ক?”
” সে এক লম্বা ইতিহাস এখনই শুনবি ?” ভ্রু টা সামান্য কুঁচকে রোদ জিজ্ঞাসা করলো.
“হ্যাঁ এখনই শুনবো”- অরিত্রর গলায় উত্তেজনা
শোন্ তবে রোদ শুরু করলো ______________

15th সেপ্টেম্বর, 2007 দশ বছর আগে

রোদের গল্প

আজ এক সপ্তাহ হলো আমার বাইক এক্সিডেন্ট হযেছে ..
এই এক সপ্তাহ ধরে আমার সাথে আরও একটা জিনিস হচ্ছে সেটা আমার কাউকে বলা হয় নি তাই ডাইরিতে লিখছি..
আজ থেকে ঠিক সাত দিন আগে যখন পায়ে প্লাস্টার নিয়ে বাড়ি ফিরলাম, কেমন একটা মন -খারাপ করা অনুভূতি আমার মনকে অবশ করে দিচ্ছিলো. “এবার থেকে বাড়িতে বসে শুধু বোর হওয়া —এটাই হবে আমার রুটিন .” এই কথাটা শুধু মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিলো

এক্সিডেন্ট- এর পর প্রথম দিন

আজ পিবলু এসেছিলো ওর মা বাবার সাথে আমায় দেখতে .. পিবলু আমার মাসির ছেলে ক্লাস ফাইভ -এ পড়ে. আমায় খুব ভালোবাসে ..দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর পিবলু আমার রুমে ছিল, আর সবাই বোধহয় পাশের ঘরে গল্প করছিলো……আমি টিভির রিমোট টা নিয়ে চ্যানেল সার্ফিং করছিলাম.. টিভি দেখা আমার অভ্যেসে নেই..২:৩০ বাজতে না বাজতেই পিবলু আমায় বললো রিমোটটা দে আমি একটা সিরিয়াল দেখবো কালকে দেখা হয়নি পড়া ছিল এখন রিপিট হবে .. আমি বেশ অবাক হয়ে বললাম “এইটুকু ছেলে তুই সিরিয়াল দেখিস” ও নিদিষ্ট চ্যানেল নম্বর টা রিমোটে টিপে আমার দিকে তাকিয়ে বললো “পুরো কলেজ লাইফ দেখায় বস! এখন থেকেই এক্সপেরিয়েন্স করছি..” আমি কিছু না বলে টিভি র দিকে তাকালাম.. সিরিয়ালের নাম “দিল”..পিবলু ঠিক ই বলেছিলো এই সিরিয়াল টা বাকি সবার থেকে আলাদা ..মুচমুচে মিষ্টি একটা গল্প কলেজ লাইফ নিয়ে.. দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়.
আধঘন্টা পর সিরিয়াল টা যখন শেষ হলো আমি প্রায় মুগ্ধ হয়ে গেলাম.. পিবলুকে জিজ্ঞাসা করলাম “হ্যাঁ রে সন্ধেবেলা কখন হয় এই সিরিয়ালটা” .. “ক্যানো রে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে গেলি নাকি ..সোম থেকে শনি রাত ৮টায় হয় ?” মুখে দুস্টু দুস্টু হাসি রেখে পিবলু বললো.. আমি বললাম “দূর ! এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম..
তিনটে থেকে ৮টা …এখনো ৫ ঘন্টা ..আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম ……
____________________________________________________________________
(ক্রমশ)
আরো পড়তে ভিসিট করুন wowlyf.com

Advertisements