গল্প : হইচই ফ্যান ক্লাব

আমার বৃষ্টি খুব ভালো লাগে ……যখন বাড়িতে থাকি বৃষ্টি পড়লেই আমি ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াই …এলোমেলো হাওয়া একঝাক বৃষ্টি এনে আমায় ভিজিয়ে দেয় ….আর বৃষ্টির গন্ধর সাথে কি করে যেন আমার ছোটবেলা মিশে আছে …ছোট বেলায় বৃষ্টি পড়লে আমার খুব মজা হত …বিশেষ করে যেদিন tuition-এ exam থাকত সেদিনগুলোয় বৃষ্টি হলে কি যে মজা হত ভাবলে এখনো মন ভালো হয়ে যায় …কিন্তু আজ আমার বৃষ্টিটাকে ভীষণ অসহ্য মনে হছে ,..জিন্স-এর প্যান্টটা হাঁটু অবধি গুটিয়ে,.ছাতা মাথায় আমার ঝাপসা হয়ে যাওয়া পাড়ার মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নিজেকে কেমন যেন একটা ভুতের গল্পের নায়িকা বলে মনে হছে …ধুর! …সবে সকাল ১০ টা বাজে কে বলবে মনে হচ্ছে যেন এই বুঝি ঝুপ করে সন্ধে নামবে …এত চুপচাপ শান্ত-শিষ্ট এই পাড়াটা আমার অচেনা …সব হয়েছে এই বৃষ্টির জন্য.. দু সপ্তাহ ধরে এক নাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে চলেছে থামার কোনো ইচ্ছেই নেই ..কোনো ক্রমে জল চিরে চিরে বাস স্টপে এলাম …তাও প্রায় ১০ মিনিট হয়ে গেল …..একা দাঁড়িয়ে আছি এখনো একটা কিছু পেলাম না ……হঠাৎ দেখি ছেলেটা আসছে আমার ঝাপসা হয়ে যাওয়া পাড়ার রাস্তা দিয়ে ……ছেলেটা সামনে এলেই আমি কেমন যেন ক্যাবলা হয়ে যাই ..কোনো কথা বলতে পারি না …বুকের মধ্যে কেমন একটা অদ্ভুত feelings হয় … এই আমার তখন নিজেকে ভীষণ অচেনা লাগে ..আমার ভেতর থেকে কে যেন জোরে জোরে শাঁখ বাজায় …বাইরে থেকে শোনা যায় কি ?? না বোধহয় …..ও এসে এখন আমার পাশে দাঁড়িয়েছে …এমন ভাব করছে যেন ও আমায় চেনেই না ….কোনো দিন দেখেই নি …কে বলবে এই ছেলেটাই আমার নাম একটা social networking site এ fan club খুলেছে …..
অবশ্য আমিও ওকে না চেনার ভান করে দাড়িয়ে আছি ..আচ্ছা ওকি জন্ম থেকেই ক্যাবলা নাকি আমায় দেখলে ক্যাবলা হয়ে যায় …..humme tumme kuch to hai kuch nahi hai kya..এই গানটা আবার কোথা থেকে ভেসে আসছে ….ওহ আমার মোবাইল ..পকেট থেকে ফোনটা বার করে দেখি রিনি কলিং …হ্যালো …
হ্যা কোথায় তুই আসবি না …
হ্যা রে আসছি রাস্তায় দাড়িয়ে আছি কিছু পাচ্ছি না ..আর কে কে এসেছে..?
কেউ না আমি একা, তাড়াতাড়ি আয় …
হমমম আসছি ….এই শোন আমার ফোন জলে ভিজে যাচ্ছে …তোর্ সাথে পরে কথা বলছি bye

একটা বাস আসছে …উঠব না অটোর জন্য wait করব ভাবছি ..হঠাৎ দেখি বাসটা আমার সামনে এসে থেমে গেল ভেতর থেকে তিন্নি চিত্কার করছে এই চিনি উঠে আয় …আমি ছাতা বন্ধ করে বাসএ উঠে পড়লাম .. পেছনের সিটে বসে এক বার পিছনে ফিরলাম দেখি ছেলেটা এক দৃষ্টিতে বাসটার দিকে তাকিয়ে আছে ………….

 

ক্রমশ (to be continued…) …….

Copyright ©ANNAPURNA CHAKRABORTY, All Rights Reserved

Advertisements

চাঁদেও তো দাগ আছে

আচ্ছা আর কার কার আমার মত মেলায় গিয়ে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে ? না না আমি কখনো কোথাও হারিয়ে যায়নি.. অনেক না পাওয়ার ভীড়ে আমার এই হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছেটাও হারিয়ে গেছে … ও বলতে ভুলে গেছি আজ আমি কেন হঠাত মেলা নিয়ে লিখছি.. আমাদের পাড়ায় রোজ এইসময় মেলা হয় … এবারেও হচ্ছে.. বাড়ির পাশে মেলা, সেখানে রোজ বিকেলে নিয়ম করে না গেলে নিজেকে কেমন অপরাধী মনে হয় … তাই রোজ যাই  চিকেন রোল, পাপড়ি চাট , ফুচকা ,ঘুগনি, আর আইস ক্রিম খেতে… পাড়ার সবাই যখন দেখায়  তারা আশ্চর্য সব জিনিস কিনেছে এই মেলা থেকে.. নিজের উপর খুব রাগ হয় আচ্ছা আমি কি অন্ধ.. কখনো কি ফুচকা, চিকেন রোল থেকে চোখ তুলে তাকাতে পারব না .. এত বছরে একটা আশ্চর্য কিছু চোখে পড়ল না আমার কেনার মত… কিন্তু এবার মেলায় গিয়ে দিদির একটা গাছ টাইপের দেখতে শো-পিস পছন্দ হয়.. এইটা ওই আশ্চর্য টাইপের কাছাকাছি কিছু একটা  ভেবে খুব বার্গেনিং শুরু করি (কারণ ওটা রিচুয়াল) দোকানদারের সাথে .. ১৬০ এর জিনিস ১২০ তে নামাই..জিনিস টা  প্যাক করতে করতে দোকানদার এক গাল হেসে  বলে, “খুব ভালো জিনিস পেয়ে গেলেন  এত কম দামে..সারা জীবনেও এই জিনিসের কিছু হবে না ” .এক রাশ ভালোলাগা নিয়ে বাড়িতে এসে দেখি জিনিসটা থার্মোকলের আর পেছন টা অল্প ভাঙ্গা… এ মা.. তখন যে অত করে দেখলাম চোখে পড়ল না তো.. সবাই বলল খুব ঠকে গেছি …IMG_20140604_215920খুউব সাবধানে রাখতে হছে আমার এত দিনের অপেক্ষার পর পাওয়া আশ্চয জিনিসটাকে ..তাতে কি? কেউ ঠিকই বলিছিল “চাঁদেও তো দাগ আছে”…

ভেবেছিলাম রাগ করব, কিন্তু করা হলো না

ভেবেছিলাম রাগ করব, কিন্তু করা হলো না..
ভেবেছিলাম আজ বৃষ্টি হবে ভিজব খুব..
ভেবেছিলাম তোর্ কথা আজ তোকেই শোনাব, চুপটি করে শুনবি তুই …
ভেবেছিলাম আজ নতুন কোনো স্বপ্ন দেখব, কিন্তু দেখা হলো না…

Copyright ©ANNAPURNA CHAKRABORTY, All Rights Reserved

যে শহর ম্যাজিক দেখায় সন্ধে নামার আগে

আচ্ছা কলকাতা কে কেন আমি এত ভালবাসি ? কি আছে এই শহরে …আর পাঁচটা শহরের মত এই শহরেও তো রোজ একটা ঝা-চকচকে সন্ধে নামে.. শপিং মলগুলোর গা বেয়ে হাসি চুইয়ে পরে বৃষ্টির মত… রাস্তার পাশে দাড়িয়ে কোনো একটা মেয়ে ফুচকা খেতে খেতে তার বন্ধুকে বলে “এটা হলো এই শহরের বেস্ট ফুচকার দোকান. এই ফুচকা কাকুর হাতে না জাদু আছে”… একটা হইচই করা বন্ধুদের দল রোজ কলকাতায় আসে কোনো না কোনো কাজে.. তাদের হাসি , ঠাট্টা আর ইয়ার্কি- তে নতুন ভাবে জেগে ওঠে সেই কবেকার পুরনো এই শহরটা .. কলকাতা আবার নতুন করে মডার্ন হয় যখন এই শহরেরই কোনো এক গলি তে লুকিয়ে থাকা কোনো কবি নতুন ভাবনার কোনো কবিতা লেখে…. প্রতি শীতের সকালে যখন প্রিন্সেপ ঘাটে সবাই যায় শুধু ফটো তুলে ফেসবুকে আপলোড করবে বলে , নৌকোয় উঠে যখন তারা টাইটানিক এর পোজ দিয়ে এই শহরকে ফিল্মি বানায়…তখনও এই শহর রাগ করে না.. বরং মুচকি হেসে প্রশয় দেয় … তবুও আমার এই শহর টাকে বিনা দোষে কত মানুষের গালি সহ্য করতে হয় .. “রাস্তায় এত জ্যাম এই শহরের কিছু হবে না” , “বাংলা বন্ধ দূর এই শহরে মানুষ থাকে” আরো কত কি .. সেসব কথা এ-শহর মনে রাখে না …সব ভুলে সে তার প্রতিটা বিকেল আরো ম্যাজিকাল করার চেষ্টা করে… যখন এক বিকেল এ বাইপাস এর রাস্তার সব আলো একসাথে জলে উঠতে দেখে মুদ্ধ হওয়া একটা মেয়ে মনে মনে ভাবে “যে যাই বলুক আমি আমার এই শহরকে ছেড়ে কখনো কথাও যাব না …আমি জানি আমি চলে গেলে এই সুন্দর বিকেল, ঝলমলে সন্ধে আর রাগী দুপুর গুলো আমাকে খুব মিস করবে” আর তখনি এই শহরের আকাশের কোনে কালো মেঘ জমে ওঠে.. যদিও বৃষ্টিতে ভিজলে কলকাতা কে আরো সুন্দর লাগে ..কিন্তু আজ যেন বৃষ্টি না হয় .. আমি চাই না সবাই জানুক আমার এই শহরটা বাইপাস এর রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা মেয়েটার চেয়েও বেশি emotional….

Copyright ©ANNAPURNA CHAKRABORTY, All Rights Reserved

তোর জন্য

আমি তোর জন্য এক পৃথিবী বানাবো
যে পৃথিবী শুধুই স্বপ্নময়
যে পৃথিবী সূর্য-এর সাত রঙে রঙ্গিন ..
রোজ সকালের প্রথম আলো জানলা দিয়ে উকি মেরে বলে গুড মর্নিং ..
যে পৃথিবীতে বিকেল নামে রুপকথা গায়ে মেখে
ঘুমের দেশে পথ হারিয়ে স্বপ্নরা সব সত্যি হয় মনকেমনের শেষে ……..
যেই পৃথিবীতে ভালবাসা গুলো বাগানে সাজানো থাকে
সেই পৃথিবী তোকে দিলাম যত্নে রাখিস তাকে………

Copyright ©ANNAPURNA CHAKRABORTY, All Rights Reserved

যারা plagiarism-এর ধার ধারে না

কিছু মানুষ আছে যারা ছোটে আর বাকিরা পিছিয়ে যায়
বা ওরা পিছিয়ে যায় বলেই এরা ছোটে
কিছু মানুষ আছে যারা জেতে আর বাকিরা হেরে যায়
বা ওরা হারে  বলেই এরা জেতে
কিছু মানুষ  আছে যারা লেখে আর বাকিরা পাঠক হয়
বা ওরা পাঠক হয় বলেই এরা লেখে
আর কিছু মানুষ আছে যারা টোকে তাদের জন্য শুধুই করুণা
 তাদের জন্য বাকিদের কিছু যায় আসেনা..

P.S.: আশা করব এটা চুরি হবেনা.. “everyone was born an original, dont die a copy”

Copyright ©ANNAPURNA CHAKRABORTY, All Rights Reserved

হ্যাপি বার্থ ডে রবি ঠাকুর

আজ রবি ঠাকুরের জন্মদিন.. ছোটবেলায় এই দিনটা আমার কাছে খুব স্পেশাল ছিল.. আমাদের পাড়ায় প্রতিবছর খুব যত্ন করে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন হত .. সেবার ঠিক হলো নাটক হবে ..সবাই খুব excited .. অডিশন শুরু হলো.. কিন্তু আমি কোনো রোল পেলাম না… সেই গরেমের বিকেলে আমার মুখটা বোধহয় বর্ষার মেঘের মতো কালো হয়ে গেছিল .. তাই কেউ কেউ এসে আমায় বোঝালো “তুই তো খুব ছোট, তাই তোকে নাটকে নেওয়া হয়নি.. কত কষ্ট হবে জানিস, এবার থেকে রোজ বিকেলে রিহার্সাল.. ডায়লগ মুখস্ত করা আরো কত কি … তার চেয়ে তুই কবিতা বল”……হুম কবিতাই বলেছিলাম আমি .. চার লাইন এর ছোট একটা কবিতা ..আর তার কিছুক্ষণ পর ঝেপে বৃষ্টি নেমেছিল ঠিক নাটক শুরু হওয়ার আগে.. আমার মনে হয়ে ছিল আমার মতো ঠাকুরেরও বোধহয় মন খারাপ ..আমি শুনেছিলাম ঠাকুরের যখন মন খারাপ হয় তখনি বৃষ্টি নামে .. .তখন আমি রবীন্দ্রনাথ কে সত্যিকারের ঠাকুর ভাবতাম.. যেমন দূর্গা ঠাকুর, লক্ষ্মি ঠাকুর তেমনি রবি ঠাকুর.. ঠাকুর নাহলে কি সবাই একসাথে এভাবে কারোর বার্থ ডে সেলিব্রেট করে… ঠাকুর না হলে কি কারোর জন্মদিনে প্রতিবছর বৃষ্টি হয় (তখন প্রতি বছর রবীন্দ্রজয়ন্তী তে বৃষ্টি হতো)..
তারপর অনেক গুলো রবীন্দ্র জয়ন্তী পেরিয়ে আমি বড় হয়ে গেলাম … আগের বছর এইদিন এ আমার পাশের বাড়ির বাচ্চা মেয়েটা আমার বিছানায় শুয়ে পা নাচাতে নাচাতে বলেছিল “জানিস আজ বিকেলে না বৃষ্টি হবে” আমি জিগেস করেছিলাম “তোকে কে বললো?” ও আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলেছিল ” তুই এটাও জানিস না.. আজ তো ঠাকুরের হ্যাপি বার্থ ডে .. আর ঠাকুরের হ্যাপি বার্থডে-তে তো বৃষ্টি হয়ই “

Copyright ©ANNAPURNA CHAKRABORTY, All Rights Reserved